15. দান খয়রাত

【1】

দান করে তা পুনরায় ফেরত নেয়া।

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন তুমি তোমার কৃত দান ফেরত নিও না। [২৩৯০] আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দান করে তা পুনরায় ফেরত নেয়, সে কুকুরের সমতুল্য, যে বমি করে পুনরায় ফিরে এসে তা গলাধঃকরণ করে। [২৩৯১]

【2】

কেউ কিছু দান করার পর তা বিক্রয় হতে দেখলে সে কি তা ক্রয় করতে পারে?

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগে একটি ঘোড়া দান করেছিলেন। তিনি তার মালিককে সেটি সস্তায় বিক্রয় করতে দেখে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকটে এসে এ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমার দান তুমি ক্রয় করোনা। [২৩৯২] যুবায়র ইবনুল আওওয়াম (রাঃ) তিনি তার গামর বা গামরা নামের একটি ঘোড়া দান করেন। তিনি তার সেই ঘোড়ার গর্ভজাত একটি নর বা মাদী ঘোড়া বিক্রয় হতে দেখলেন। তা ক্রয় করতে নিষেধ করা হলো। [২৩৯৩]

【3】

কেউ কোন জিনিস দান করার পর তার ওয়ারিশ হলে।

বুরায়দাহ (রাঃ) এক মহিলা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার মাকে আমার একটি ক্রীতদাসী দান করার পর তিনি ইনতিকাল করেন। আমি ছাড়া তার আর কোন ওয়ারিস নাই। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহ তোমাকে প্রতিদান দিবেন এবং তা ওয়ারিসী সূত্রে তোমাকে ফেরত দিয়েছেন। [২৩৯৪] আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাঃ) এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকটে এসে বললো, আমি আমার মাকে আমার একটি বাগান দান করেছিলাম। তিনি ইনতিকাল করেছেন এবং আমাকে ছাড়া আর কোন ওয়ারিস রেখে যাননি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমার দান পূর্ণ রূপে আদায় হয়েছে এবং তোমার বাগান তোমার মালিকানায় ফেরত এসেছে। [২৩৯৫]

【4】

যে ব্যক্তি ওয়াকফ করলো।

ইবনু উমার (রাঃ) উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) খায়বারে এক খণ্ড জমি পেলেন। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে তাঁর নির্দেশ প্রার্থনা করে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি খায়বারে এক খণ্ড সম্পত্তি লাভ করেছি। আমার মতে এতো উত্তম সম্পত্তি আমি আর কখনও অর্জন করিনি। এই সম্পত্তির সম্পর্কে আপনি আমাকে কী হুকুম করেন? তিনি বলেনঃ তুমি ইচ্ছা করলে মূল সম্পত্তি (তোমার মালিকানায়) বহাল রেখে তার আয় দান-খয়রাত করতে পারো। ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, উমার (রাঃ) নিম্নোক্ত শর্তযোগে তাই করলেনঃ “মূল সম্পত্তি বিক্রয় করা যাবেনা, দান করা যাবেনা, তাতে ওয়ারিসী স্বত্বও বর্তাবে না এবং তার আয় দরিদ্র, নিকটাত্মীয়, দাসমুক্তি, আল্লাহর রাস্তায় মুসাফির ও মেহমানদের আপ্যায়ন ইত্যাদি উদ্দেশ্যে দান করা হবে। যে তার মোতাওয়াল্লী হবে, সে তা থেকে ন্যায়সঙ্গতভাবে আহার করতে পারবে, কিন্তু জমা করতে পারবেনা। [২৩৯৬] ইবনু উমার (রাঃ) উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! খায়বারের আমি যে একশত অংশ জমি পেয়েছি, তার চেয়ে অধিক প্রিয় কোন সম্পত্তি আমি আর কখনো পাইনি। আমি তা দান-খয়রাত করার সংকল্প করেছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি মূল সম্পত্তি বহাল রেখে দাও এবং তার আয় দান করো। মুহম্মাদ বিন আবূ উমার আল-আদানী, সুফইয়ান, আব্দুল্লাহ বিন উমার (যঈফ বা দুর্বল) , নাফি, ইবনু উমার (রাঃ)। তিনি বলেন, উমার (রাঃ) বললেন, .......উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। [২৩৯৭]

【5】

আরিয়া (অস্থাবর মাল ধার দেয়া)

আবূ উমামা (রাঃ) আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি : আরিয়া পরিশোধ করতে হবে এবং মানীহা (দুধ পান করতে দেয়া পশু) ফেরত দিতে হবে। [২৩৯৮] আনাস বিন মালিক (রাঃ) আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি : আরিয়া (ধার) পরিশোধ করতে হবে এবং মানীহা (দুধ পান করতে দেয়া পশু) ফেরত দিতে হবে। [২৩৯৯] সামুরাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ কোন ব্যক্তি (ধারে) যা গ্রহণ করেছে তা ফেরত না দেয়া পর্যন্ত তার জন্য সে দায়ী থাকবে। [২৪০০]

【6】

ওয়াদিয়া (নিরাপদ সংরক্ষণের জন্য প্রদত্ত আমানত) ।

আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কেউ কারো কাছে ওয়াদিয়া রাখলে (তা ধ্বংস হলে) তার কোন ক্ষতিপূরণ নাই। [২৪০১]

【7】

আমানত গ্রহণকারী আমানতের মাল দিয়ে ব্যবসা করে লাভবান হলে।

উরওয়া আল-বারিকী (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জন্য একটি ছাগল কেনার উদ্দেশে তাকে একটি দীনার দেন। তিনি তাঁর জন্য দু'টি ছাগল কিনে এর একটি এক দীনারে বিক্রয় করে একটি দীনার ও একটি ছাগল নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট উপস্থিত হন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার জন্য বরকতের দোয়া করেন। রাবী বলেন, এরপর তিনি মাটি কিনলে তাতেও লাভবান হতেন। [উপরোক্ত হাদীসে মোট ২টি সানাদের ১টি বর্ণিত হয়েছে। অপর সানাদটি হলোঃ] ২/২৪০২ (১) . আহমাদ বিন সাঈদ আদ-দারিমী, হাব্বান বিন হিলাল, সাঈদ বিন যায়দ (তিনি সত্যবাদী তবে হাদীস বর্ণনায় সন্দেহ করেন) , যুবায়রর ইবনুল খিররীত, আবূ লাবীদ লিমাযাহ বিন যাব্বার (তিনি সত্যবাদী তবে নাসিবী) , উরওয়াহ বিন আবুল জাদ আল-বারিকী (রাঃ) বলেন, একটি বাণিজ্যিক কাফেলা পণ্যদ্রব্য নিয়ে আসলো। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে একটি দীনার দিলেন...... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। [২৪০২]

【8】

হাওয়ালা (ঋণের দায় হস্তান্তর) ।

আবূ হুরায়ররাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ধনী ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা অন্যায়। সচ্ছল ব্যক্তির নিকট তোমাদের কারো পাওনা থাকলে সে যেন তার পেছনে লেগে থাকে। (শেষোক্ত বাক্যের আরো একটি অর্থ হতে পারেঃ তোমাদের কারো ঋণ পরিশোধ করার জন্য ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি কোন সক্ষম ব্যক্তির উপর দায়িত্ব ন্যস্ত করলে তা অনুমোদন করা উচিত) [২৪০৩] ইবনু উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সচ্ছল ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা জুলুম। সচ্ছল ব্যক্তির নিকট তোমার পাওনা থাকলে তার পেছনে লেগে থাকো। [২৪০৪]

【9】

যামিন হওয়া (কাফালাহ)

আবূ উমামাহ আল-বাহিলী (রাঃ) আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছিঃ যামিনদার দায়বদ্ধ এবং ঋণ অবশ্যই পরিশোধযোগ্য। [২৪০৫] ইবনু আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর যুগে এক ব্যক্তি তার দেনাদারের পেছনে লাগলো। সে তার নিকট দশ দীনার পাওনা ছিল। দেনাদার বললো, আমার নিকট তোমাকে দেয়ার মতো কোন জিনিস নাই। পাওনাদার বললো, না, আল্লাহর শপথ ! আমার দেনা পরিশোধ না করা পর্যন্ত অথবা একজন যামিনদার উপস্থিত না করা পর্যন্ত আমি তোমাকে ছাড়ছি না। সে তাকে টেনে-হেঁচড়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট নিয়ে গেলো। তিনি পাওনাদারকে বলেনঃ তুমি তাকে কতো দিনের অবকাশ দিতে পারো? সে বললো, এক মাস। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তাহলে আমিই তার যামিন। দেনাদার নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর বলে দেয়া সময়সীমার মধ্যে পাওনাসহ তাঁর নিকট উপস্থিত হলে তিনি তাকে বলেনঃ তুমি এগুলো কোথায় পেলে? সে বললো, খনিতে। তিনি বলেনঃ এতে কোন কল্যাণ নেই। অতঃপর তিনি নিজের পক্ষ থেকে ঋণদাতার পাওনা পরিশোধ করেন। [২৪০৬] আবূ কাতাদাহ (রাঃ) জানাযার নামায পড়ার জন্য একটি লাশ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট নিয়ে আসা হলো। তিনি বলেনঃ তোমরা তোমাদের সঙ্গীর জানাযার নামাজ পড়ো। কেননা সে ঋণগ্রস্ত। আবূ কাতাদাহ (রাঃ) বলেন, আমি তার ঋণের যামিন হচ্ছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ পরিশোধ করার জন্য তো? তিনি বলেন, পরিশোধ করার জন্য। তার ঋণের পরিমাণ ছিলো আঠার বা উনিশ দিরহাম। [২৪০৭]

【10】

যে ব্যক্তি পরিশোধ করার অভিপ্রায় নিয়ে ঋণ গ্রহণ করে

মায়মূনাহ (রাঃ) (হুযায়ফাহ) উম্মুল মুমিনীন মায়মুনা (রাঃ) ধারকর্জ গ্রহণ করতেন। তার পরিবারের কেউ কেউ বললো, আপনি ধারকর্জ করবেন না এবং তার এ কাজকে তারা অপছন্দ করলো। তিনি বলেন, হাঁ আমি আমার নবী ও বন্ধু (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ যে কোন মুসলমান ধারকর্জ গ্রহণ করে এবং আল্লাহ জানেন যে, তা পরিশোধ করার অভিপ্রায় তার রয়েছে, তাহলে দুনিয়াতেই আল্লাহ তার ঐ ধারকর্জ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন। [২৪০৮] তাহকিক আলবানীঃ (আরবি) শব্দ ব্যতিত সহিহ। আবদুল্লাহ বিন জাফর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত আল্লাহ তার সাথে থাকেন, যদি না সে আল্লাহর অপছন্দনীয় উদ্দেশ্যে ঋণ গ্রহণ করে থাকে। রাবী বলেন, আবদুল্লাহ বিন জাফর (রাঃ) তার কোষাধ্যক্ষকে বলতেন, যাও, আমার জন্য ঋণ গ্রহণ করো। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট যে হাদীস শুনেছি তারপর থেকে এক রাতও আল্লাহ আমার সঙ্গে থাকা ছাড়া কাটাতে অপছন্দ করি। [২৪০৯]

【11】

যে ব্যক্তি ঋণ গ্রহণ করলো কিন্তু তা পরিশোধের অভিপ্রায় তার নাই।

সুহায়ব আল-খায়র (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে কোন ব্যক্তি ঋণ গ্রহণ করলো এবং তা পরিশোধ না করতে সংকল্পবদ্ধ, (কিয়ামতের দিন) সে আল্লাহর সাথে তস্কররূপে সাক্ষাত করবে। [২৪১০] [উপরোক্ত হাদীসে মোট ২টি সানাদের ১টি বর্ণিত হয়েছে, অপর সানাদটি হলোঃ] ২/২৪১০ (১) . সুহায়ব আল-খায়র (রাঃ) তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। আবূ হুরায়রা (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ ধ্বংস করার অভিপ্রায় গ্রহণ করে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করবেন। [২৪১১]

【12】

ঋণের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মুক্ত দাস সাওবান (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তিনটি দোষ থেকে মুক্ত অবস্থায় যার দেহ থেকে তার প্রাণবায়ু বের হয়েছে সে জান্নাতে প্রবেশ করবেঃ অহংকার, আত্নসাৎ ও ঋণ। [২৪১২] আবূ হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মু’মিন ব্যক্তির রূহ তার ঋণের কারণে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, যাবত না তা পরিশোধ করা হয়। [২৪১৩] ইবনু উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি তার যিম্মায় এক দীনার বা এক দিরহাম পরিমাণ ঋণ রেখে মারা গেলে (কিয়ামতের দিন) তার নেক আমলের দ্বারা তা পরিশোধ করা হবে। আর সেখানে কোন দীনারও থাকবে না দিরহামও থাকবে না। [২৪১৪]

【13】

কেউ ঋণ বা নাবালেগ সন্তান রেখে মারা গেলে, তার দায়িত্ব আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের

আবূ হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগে কোন মু’মিন ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা গেলে তিনি জিজ্ঞেস করতেন, সে কি তাঁর ঋণ পরিশোধ করার মত কোন কিছু রেখে গেছে? লোকজন যদি বলতো, হাঁ, তবে তিনি তার জানাযার নামায পড়তেন। আর যদি তারা বলতো, না, তাহলে তিনি বলতেনঃ তোমরা তোমাদের সঙ্গীর জানাযার নামায পড়ো। অতঃপর আল্লাহ তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে (যুদ্ধে) অসংখ্য বিজয় দান করলে তিনি বলেনঃ আমিই মু’মিনদের জন্য তাদের নিজেদের চেয়ে অধিক কল্যাণকামী। অতএব কোন ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা গেলে তা পরিশোধের দায়িত্ব আমার। আর সে যে সম্পদ রেখে যাবে, তা তার ওয়ারিসদের প্রাপ্য। [২৪১৫] জাবির (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি সম্পদ রেখে মারা গেলে তা তার ওয়ারিসদের প্রাপ্য। আর কোন ব্যক্তি ঋণ অথবা অসহায় সন্তান রেখে মারা গেলে তা পরিশোধের দায়িত্ব আমার এবং তাদের লালন-পালনের দায়িত্বও আমার। আমিই মু’মিনদের অধিক উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষক। [২৪১৬]

【14】

অসচ্ছল ব্যক্তিকে (ঋণ পরিশোধে) অবকাশ দেয়া।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অসচ্ছল (ঋণগ্রস্ত) ব্যক্তিকে অবকাশ দিবে, আল্লাহ দুনিয়াতে ও আখিরাতে তার সাথে সহজ ব্যবহার করবেন। [২৪১৭] বুরায়দাহ আল-আসলামী (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি (ঋণগ্রস্ত) অভাবী ব্যক্তিকে অবকাশ দিবে, সে দান-খয়রাত করার সওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি ঋণ শোধের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ও সময় বাড়িয়ে দিবে সেও প্রতিদিন দান-খয়রাত করার সওয়াব পাবে। [২৪১৮] আবুল য়াসর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি চায় যে আল্লাহ তাকে তাঁর ছায়ার নিচে স্থান দিন, সে যেন ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে অবকাশ দেয় অথবা তার দেনা মাফ করে দেন। [২৪১৯] হুযায়ফাহ ও আবূ মাসঊদ (রাঃ) এক ব্যক্তি মারা গেলে তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, তুমি কী আমল করেছো? সে নিজের স্মৃতি থেকে অথবা তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে বললো, আমি নগদ অর্থ ধার দিতাম এবং অভাবগ্রস্তকে (ঋণ পরিশোধে) অবকাশ দিতাম। এজন্য আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। আবূ মাসঊদ (রাঃ) বলেন, আমিও এ হাদীস রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট শুনেছি। [২৪২০]

【15】

উত্তম পন্থায় পাওনা আদায়ের তাগাদা দেয়া এবং বিনীতভাবে পাওনা গ্রহণ করা।

ইবনু উমার ও আয়িশাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ কোন ব্যক্তি পাওনা আদায়ের তাগাদা দিলে যেন বিনীতভাবেই তাগাদা দেয়, তাতে পাওনা আদায় হোক বা না হোক। [২৪২১] আবূ হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক পাওনাদারকে বলেন, তুমি তোমার পাওনা ভদ্র ও বিনীতভাবে গ্রহণ করো, তা পূর্ণরূপে আদায় হোক বা না হোক। [২৪২২]

【16】

উত্তমভাবে ঋণ পরিশোধ করা

আবূ হুরায়রা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে সেই ব্যাক্তি উত্তম যে উত্তমরূপে ঋণ পরশোধ করে। [২৪২৩] আবদুল্লাহ বিন আবূ রাবীআহ আল-মাখযূমী (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুনায়ন যুদ্ধের সময় তার কাছ থেকে তিরিশ অথবা চল্লিশ হাজার দিরহাম ধার নিয়েছিলেন। তিনি যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে তার পাওনা পরিশোধ করেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বলেনঃ আল্লাহ পাক তোমাকে তোমার পরিবার ও সম্পদে বরকত দান করুন। ধারের প্রতিদান হলো, তা পরিশোধ করা এবং প্রশংসা করা। [২৪২৪]

【17】

পাওনাদারের কঠোর আচরণ করার অধিকার আছে

ইবনু আব্বাস (রাঃ) এক ব্যক্তি ঋণ বা পাওনা আদায়ের তাগাদা দেয়ার জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এলো এবং কিছু কঠোর কথা বললো। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাহাবীগণ এতে ক্রুদ্ধ হলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে বললেনঃ থামো! পাওনা পরিশোধ না করা পর্যন্ত ঋণদাতা তার দেনাদারকে কঠোরভাবে তাগাদা দেয়ার অধিকার রাখে। [২৪২৫] আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) এক বেদুঈন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে তার ঋণ শোধের জন্য তাঁকে কঠোর ভাষায় তাগাদা দিলো, এমনকি সে তাঁকে বললো, আমার ঋণ পরিশোধ না করলে আমি আপনাকে নাজেহাল করবো। সাহাবীগণ তার উপর চড়াও হতে উদ্যত হয়ে বললেন , তোমার অনিষ্ট হোক! তুমি কি জানো কার সাথে কথা বলছো? সে বললো, আমি আমার পাওনা দাবি করছি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমরা কেন পাওনাদারের পক্ষ নিলে না? অতঃপর তিনি কায়েসের কন্যা খাওলা (রাঃ) -এর নিকট লোক পাঠিয়ে তাকে বললেন, তোমার কাছে খেজুর থাকলে আমাকে ধার দাও। আমার খেজুর আসলে তোমার ধার পরিশোধ করবো। খাওলা (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ, আমার পিতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, ইয়া রাসূলাল্লাহ। রাবী বলেন, তিনি তাঁকে ধার দিলেন। তিনি বেদুঈনের পাওনা পরিশোধ করলেন এবং তাকে আহার করালেন। তিনি বলেনঃ উত্তম লোকেরা এমনই হয়। যে জাতির দুর্বল লোকেরা জোর-জবরদস্তি ছাড়া তাদের পাওনা আদায় করতে পারে না সেই জাতি কখনো পবিত্র হতে পারেনা। [২৪২৬]

【18】

দেনার কারণে আটক করা এবং পেছনে লেগে থাকা।

শারীদ বিন সুওয়ায়দ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে সচ্ছল ব্যক্তি কোন দেনা পরিশোধ করতে গড়িমসি করে , তাকে অপমান ও শাস্তি দেয়া উভয়ই আমার জন্য হালাল। আল আত-তানাফিসী (রাঃ) বলেন , অপমান করা অর্থ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে এবং শাস্তি দেয়ার অর্থ তাকে জেলখানায় কয়েদ করা। [২৪২৭] সা’লাবাহ (রাঃ) আমি আমার এক দেনাদারকে নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে এলাম। তিনি বলেনঃ এর পিছে লেগে থাকো। অতঃপর দিনের শেষে তিনি আমার নিকট নিয়ে যাওয়ার সময় বলেনঃ হে তামীম গোত্রের ভাই!তোমার কয়েদী কি করেছে? [২৪২৮] তাহকীক আলবানীঃ দঈফ তা’লীক আলা ইবনু মাজাহ। আবদুল্লাহ বিন কাব বিন মালিক (রাঃ) থেকে তার পিতা কাব বিন মালিক (রাঃ), বিন আবূ হাদরাদকে তার দেয়া ঋন ফেরত দানের জন্য মসজিদের মধ্যে তাগাদা দিলেন। এতে তাদের উভয়ের কণ্ঠস্বর চরমে উঠে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ঘর থেকে তা শুনতে পান। তিনি তাদের নিকট বের হয়ে এসে কাব (রাঃ) কে ডাকলেন। কাব (রাঃ) উত্তর দিলেনঃ আমি হাজির ইয়া রাসূলুল্লাহ ! তিনি বলেনঃ তোমার পাওনা থেকে এই পরিমাণ ছেড়ে দাও এবং নিজের হাত দিয়ে ইশারা করে অর্ধেক ছেড়ে দিতে বলেন। কাব (রাঃ) বললেন, আমি মাফ করে দিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দেনাদারকে বলেনঃ উঠে যাও, এবং ওর ঋণ পরিশোধ করো। [২৪২৯]

【19】

করয দেয়া।

কায়স বিন রূমী (রাঃ) সুলায়মান বিন আদনান (রাঃ) আলকামা (রাঃ) কে তার ভাতা প্রাপ্তির সাপেক্ষে এক হাজার দিরহাম করয দিয়েছিলেন। সুলায়মান তাকে কঠোরভাবে করয থেকে দানের তাগাদা দিলেন। আলকামা (রাঃ) তার কর্য ফেরত দিলেন এবং তার প্রতি অসন্তুষ্ট হলেন। কয়েক মাস পর তিনি সুলায়মানের নিকট এসে বলেন, হাঁ খুব ভাল কথা। হে উতবার মা! দয়া করে তোমার নিকট গচ্ছিত মোহর করা থলেটি নিয়ে এসো। সে তা নিয়ে এলে সুলায়মান (আলকামাকে) বলেন, আল্লাহর শপথ ! দেখুন, এগুলো আপনার সেই দিরহাম যা আপনি আমাকে ফেরত দিয়েছিলেন। আমি তা থেকে একটি দিরহাম ও সরাইনি। আলকামা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর জন্য তোমার পিতা উৎসর্গিত হোক! তবে কোন জিনিস তোমাকে আমার সাথে রূঢ় আচরণ করেতে প্ররোচিত করেছিল? তিনি বলেন, আমি আপনার নিকট যে হাদীস শুনেছি তা। আলকামা (রাঃ) বলেন, তুমি আমার নিকট কী হাদীস শুনেছ? তিনি বলেন আমি আপনাকে বিন মাসঊদ (রাঃ) -র সুত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি যে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “কোন মুসলমান অপর মুসলমানকে দু’বার করয দিলে সে সেই পরিমাণ মাল একবার দান-খয়রাত করার সমান সওয়াব পায়। ” আলকামাহ (রাঃ) বলেন, ইবনূ মাসঊদ (রাঃ) আমাকে এভাবেই অবহিত করেছেন। [২৪৩০] তাহকীক আলবানীঃ দঈফ তবে মারফূ’ সুত্রে হাসান। আনাস বিন মালিক (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মিরাজের রাতে আমি জান্নাতে একটি দরজায় লেখা দেখলাম, দান খয়রাতে দশ গুন সওয়াব এবং করযে আঠারো গুন! আমি বললামঃ হে জিব্রাঈল! করয দান-খয়রাতের চেয়ে উত্তম হওয়ার কারণ কি? তিনি বলেন, ভিক্ষুক নিজের কাছে (সম্পদ) থাকতেও ভিক্ষা চায়, কিন্তু করযদান প্রয়োজনের তাগিদেই করয চায়। [২৪৩১] ইয়াহইয়া বিন ইসহাক আল-হুনায়ী আমি আনাস বিন মালিক (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, আমাদের মধ্যে কেউ তার ভাইকে মাল করয দেয়, অতঃপর করযদার তাকে উপঢৌকন দেয়। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কোন জিনিস করয দেয়ার পর করযদার তাকে কিছু উপঢৌকন দিলে বা তার সওয়ারীতে আরোহণ করাতে চাইলে সে যেন তাতে আরোহণ না করে এবং উপঢৌকন গ্রহণ না করে। তবে তাদের মধ্যে আগে থেকেই এরূপ সৌজন্যমূলক বিনিময়ের প্রচলন থাকলে আপত্তি নেই। [২৪৩২]

【20】

মৃতের পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করা।

সাদ ইবনুল আতওয়াল (রাঃ) তার ভাই ইন্তিকাল করেন এবং তিন শত দিরহাম ও কতক অসহায় সন্তান রেখে যান। আমি সেগুলো তার সন্তানদের জন্য খরচ করতে মনস্থ করলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমার ভাই দেনার কারণে আটক রয়েছে। অতএব তার পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করো। সাদ (রাঃ) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি তার পক্ষ থেকে সব দেনা শোধ করেছি, কেবল এক মহিলার দাবিকৃত দু’টি দীনার বাকী আছে। কিন্তু তার কাছে কোন প্রমাণ নেই। তিনি বলেনঃ তা তাকে দিয়ে দাও, কারণ সে সত্যবাদিনী। [২৪৩৩] জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) তার পিতা তার দায়িত্বে তিরিশ ওয়াসাক (খাদ্যশস্য) দেনা রেখে যান। এক ইহূদীর নিকট থেকে তা ধার নেয়া হয়েছিল। জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) তার কাছে সময় চাইলে সে তাকে সময় দিতে রাযী হলো না। জাবির (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে আলাপ করলেন যে, সে যেন তার করযের বিনিময়ে জাবিরের বাগানের খেজুর নিয়ে নেয়। ইহূদী তাতে সম্মত হলো না। পুনরায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে সময় দিতে বললে এবারও সে তাকে সময় দিতে রাজী হলো না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জাবিরের বাগানে প্রবেশ করে তার মধ্যে পায়চারি করলেন, তারপর জাবির (রাঃ) কে বললেনঃ খেজুর কেটে তার সম্পূর্ণ পাওনা তাকে মিটিয়ে দাও। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রত্যাবর্তনের পর জাবির (রাঃ) তা কাটলেন এবং তা থেকে ইহূদীকে তিরিশ ওয়াসাক দেয়ার পর আরো ১২ ওয়াসাক উদ্বৃত হলো। অতএব জাবির (রাঃ) এ খবর জানানোর জন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে এলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে অনুপস্থিত পেলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফিরে এলে তিনি তাঁর কাছে এসে জানাল যে, তিনি ইহূদীর সম্পূর্ণ পাওনা পরিশোধ করেছেন এবং যা উদ্বৃত হলো তাঁর কথাও তাঁকে অবহিত করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ খবরটি উমার ইবনুল খাত্তাব কেও পৌঁছিয়ে দাও। জাবির (রাঃ) উমর (রাঃ) এর কাছে গিয়ে খবরটি জানালে তিনি তাকে বলেনঃ আমি জানতাম যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন বাগানের মধ্যে পায়চারী করছেন তখন আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই তাতে বরকত দিবেন। [২৪৩৪]

【21】

তিন কারণে দেনাদার হলে আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করে দিবেন।

আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি ঋণগ্রস্থ অবস্থায় মারা গেলে কিয়ামতের দিন তার থেকে ঋণ কর্তন করা হবে। কিন্তু তিন কারণে ঋণগ্রস্থ হলে ভিন্ন কথা। (এক) যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে করতে দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে ঋণ করে আর তার দ্বারা আল্লাহর দুশমন এবং নিজের দুশমনের বিরুদ্ধে শক্তি সঞ্চয় করে। (দুই) কোন ব্যক্তির নিকট কোন মুসলমান মারা গেলে তাকে দাফন করার জন্য সে ঋণগ্রস্থ হলে। (তিন) যে অবিবাহিত ব্যক্তি দারিদ্র্যের কারণে আল্লাহর দ্বীন থেকে বিপথগামী হওয়ার আশংকায় ঋণ করে বিবাহ করে। আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন তাদের পক্ষ থেকে ঋণ শোধ করবেন। [২৪৩৫]