11. জিহাদ

【1】

আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার আবশ্যকীয়তা এবং এ ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প করা

আবূ হুরাইরা (রাঃ) তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জিহাদ না করে বা জিহাদের কামনা পোষণ না করে মারা যায় সে মুনাফিক্বী বা কপটতার অংশ বিশেষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মারা যাবে। [১৩৬৪]

【2】

নিজের জান, মাল, জিহবা দ্বারা জিহাদ করা আবশ্যক

আনাস (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমাদের মাল, জান ও কথার দ্বারা মুশরিকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালাতে থাকবে। [১৩৬৫]

【3】

মহিলাদের উপর জিহাদ করা ওয়াজিব নয়

আয়িশা (রাঃ) তিনি বলেনঃ আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল! মেয়েদের উপর কি জিহাদের দায়িত্ব রয়েছে? তিনি উত্তরে বললেনঃ হ্যাঁ আছে, তবে তাতে যু্দ্ধ নেই। তাদের জিহাদ হচ্ছে- হজ্জ ও উমরাহ পর্ব সম্পাদন করা। এর মূল রয়েছে বুখারীতে। [১৩৬৬]

【4】

মাতা-পিতা জীবিতাবস্থায় জিহাদের বিধান

আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে জিহাদে যাবার অনুমতি প্রার্থনা করল। তখন তিনি বললেন, তোমার পিতামাতা জীবিত আছে কি? সে বলল, হ্যাঁ। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘তবে তাঁদের খিদমতের চেষ্টা কর।’ (মুত্তাফাকুন আলাইহি)। [১৩৬৭] আবূ সা‘ঈদ হাদীসে আহমাদ ও আবূ দাঊদেও অনুরূপ বর্ননা আছে- তাতে আরো আছে, তুমি বাড়ি ফিরে যাও ও পিতা-মাতার কাছে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাও, তারা যদি অনুমতি দেন ভাল, অন্যথায় তাদের কল্যাণে নিয়োজিত থাক। [১৩৬৮]

【5】

মুশরিকদের এলাকায় অবস্থান করা নিষেধ

জারীর (আল-বাজালী) (রাঃ) তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি ঐসব মুসলিমের উপর অসন্তুষ্ট ও রুষ্ট যারা মুশরিকদের মধ্যে (তাদের হয়ে) অবস্থান করে। [১৩৬৯]

【6】

হিজরতের অবসান হওয়া এবং জিহাদ ও নিয়্যাতের অবশিষ্ট থাকা প্রসঙ্গে

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মক্কা বিজয়ের পর আর হিজরাতের প্রয়োজন নেই। এখন কেবল জিহাদ ও নিয়্যাত (জিহাদের জন্য মানসিক প্রস্তুতি) রয়েছে। [১৩৭০]

【7】

জিহাদের একনিষ্ঠতা আবশ্যক

আবূ মূসা (রাঃ) তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র কলিমা সুউচ্চ রাখার উদ্দেশে যুদ্ধ করল, সেই আল্লাহ্‌র পথে জিহাদ করল’। [১৩৭১]

【8】

যতদিন পর্যন্ত শত্রুদের সাথে সংগ্রাম চলতে থাকবে, ততদিন পর্যন্ত হিজরতের অবশিষ্ট থাকা প্রসঙ্গে

আব্দুল্লাহ ইবনু সা’দী (রাঃ) তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ হিজরাত বন্ধ হবে না যতক্ষণ শত্রুর সাথে সংগ্রাম চলতে থাকবে। [১৩৭২]

【9】

কোন প্রকার ঘোষণা দেওয়া ছাড়াই দুশমনদের উপর অতর্কিতভাবে আক্রমণ করা

নাফি’ (রাঃ) তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বনী মুস্তালিক গোত্রের উপর হঠাৎ করে আক্রমণ করেছিলেন তখন ঐ গোত্রের লোকেরা উদাসীন ছিল। তাদের যুদ্ধরতদের হত্যা করলেন ও তাদের সন্তানদেরকে বন্দী করলেন। নাফি’ (রাঃ) বলেছেন এ সংবাদ আমাকে বিশিষ্ট সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) বলেছেন। [১৩৭৩]

【10】

সৈন্যদেরকে সঠিকভাবে দিক নির্দেশনা এবং উপদেশ দেওয়া

সুলাইমান ইবনু বুরাইদাহ (রাঃ) তিনি তার পিতা বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোন ছোট বা বড় সৈন্যদলের জন্য কাউকে নেতা নির্বাচন করে দিতেন তখন বিশেষভাবে তাকে আল্লাহকে ভয় করার, মুজাহিদ মুসলিমেরদের সাথে কল্যাণ করার জন্য উপদেশ দিতেন। তারপর বলতেন, আল্লাহ্‌র নামে আল্লাহর পথে যুদ্ধ কর, যে আল্লাহর সাথে কুফরী করছে তার সাথে যুদ্ধ কর, যুদ্ধ করবে, গনিমাতের মালে খিয়ানাত করবে না, প্রতারণা করবে না, অঙ্গহানি করবে না, বালকদের হত্যা করবে না, যখন তুমি মুশরিক শত্রুদের সাথে মুকাবিলা করবে তখন তাদেরকে তিনটি বিষয়ের দা’ওয়াত দিবে, তার যে-কোন একটি ক্ববুল করে নিলে তুমি তা মেনে নেবে-তাদের উপর হাত উঠাবে না। ক) তাদেরকে ইসলাম ক্ববুল করার দাওয়াত দেবে। যদি তারা তা ক্ববুল করে তুমি তাদের এ স্বীকৃতি মেনে নেবে। তারপর তাদেরকে মুহাজিরদের কাছে হিজরাত করে আসার জন্য দাওয়াত দেবে যে, তারা সাধারণ গ্রাম্য মুসলিমদের সমশ্রেণীভুক্ত হয়ে থাকবে আর গনিমাত এ ফাই-এর মালে তাদের জন্য কোন অংশ হবে না, তবে যদি তারা মুসলিমদের সাথে জিহাদে অংশগ্রহণ করে (মাত্র তখন পাবে)। খ) যদি তারা ইসলাম ক্ববূল করতে রাজি না হয় তবে তাদের কাছে জিযইয়া (এক প্রকার ট্যাক্স) দাবি করবে যদি তারা স্বীকার করে তবে তাদের এ স্বীকৃতি মেনে নেবে (আর তাদের দিকে আক্রমণের হাত বাড়াবে না)। আর যদি তারা জিযইয়া কর দিতে অস্বীকার করে তবে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করবে ও তাদের সাথে যুদ্ধ করবে। (বিনা যুদ্ধে শত্রুপক্ষের যে মাল হস্তগত হয় তাকে ফাই বলে)। গ) আর যখন কোন দুর্গবাসীদের অবরোধ করবে তখন যদি তারা আল্লাহ ও তার রাসূলের জিম্মায় আসার কোন প্রস্তাব তোমাদের কাছে পেশ করে, তবে তুমি তা স্বীকার করবে না। বরং তুমি তোমার নিজের জিম্মায় তাদের নিতে পারবে। [১৩৭৪] কেননা তোমাদের জিম্মা নষ্ট করা অনেক সহজ ব্যাপার, আল্লাহর জিম্মাকে নষ্ট করার চেয়ে। আর যদি তারা আল্লাহর ফায়সালায় উপনীত হওয়ার প্রস্তাব দেয় তবে তুমি তা করবে না। বরং তুমি নিজের ফায়সালার অধীনে তাদেরকে আশ্রয় দেবে। কেননা তুমি অবগত নও যে, তুমি আল্লাহর ফায়সালা তাদের উপর সঠিকভাব করতে পারবে কি, পারবে না। [১৩৭৫]

【11】

যুদ্ধে তাওরিয়া (কৌশল দ্বারা গোপনীয়তা অবলম্বন করা) প্রসঙ্গে

আবদুল্লাহ ইব্‌নু কা’ব ইব্‌নু মালিক (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখনই কোথাও যুদ্ধে যাবার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি অন্য দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়ে তা গোপন রাখতেন। (কৌশলে গোপনীয়তা অবলম্বন করতেন)। [১৩৭৬]

【12】

যে সময়ে যুদ্ধ করা মুস্তাহাব

মা’কিল (রাঃ) নু’মান ইবনু মুক্বারিন (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে দেখেছি তিনি যখন দিনের প্রথমাংশে যুদ্ধ না করতেন তখন সূর্য পশ্চিমাকাশে যাওয়ার পরে (স্নিগ্ধ) হাওয়া চললে এবং আল্লাহর সাহায্য অবতরণ হলে যুদ্ধ করতেন। -হাদীসটির মূল বুখারীতে রয়েছে। [১৩৭৭]

【13】

(মুসলমানদের) রাত্রিকালে কাফিরদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর বৈধতা যদিও এর মাধ্যমে তাদের ছেলেমেয়ে এবং স্ত্রীলোক নিহত হয়

সা’ব ইব্‌নু জাস্‌সামাহ (রাঃ) তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, মুসলিমদের রাত্রিকালীন আক্রমণে মুশরিকদের মহিলা ও শিশুরা নিহত হয়, তবে কী হবে? আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জবাবে বলেন, তারাও তাদেরই অন্তর্ভূক্ত। [১৩৭৮]

【14】

যুদ্ধে মুশরিকদের মাধ্যমে সাহায্য নেওয়া প্রসঙ্গে

আয়িশা (রাঃ) এক (মুশরিক) লোক বদরের যুদ্ধের দিন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে যাচ্ছিল তিনি ঐ লোকটিকে বলেনঃ তুমি ফিরে যাও, আমি কখনোও মুশরিকের সাহায্য (এ কাজে) নেব না। [১৩৭৯]

【15】

যুদ্ধে নারী এবং বাচ্চাদেরকে হত্য করা নিষেধ

ইবনু উমার (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন একটি স্ত্রীলোককে তার কোন যুদ্ধে নিহত দেখে মেয়েদের ও বালকদের নিহত হওয়াতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন (অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন)। [১৩৮০]

【16】

মুশরিকদের বয়োবৃদ্ধদের হত্যা করা নিষেধ

সামুরাহ (রাঃ) তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মুশরিকদের মধ্যে (যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী) বৃদ্ধদেরকে হত্যা কর এবং তাদের কিশোরদেরকে অব্যাহতি দাও। [১৩৮১]

【17】

মল্লযুদ্ধ

আলী (রাঃ) বদরের যুদ্ধে তারা শত্রুর মুকাবিলায় (এককভাবে) সৈন্য দলের মধ্য হতে বের হয়ে লড়েছিলেন। [১৩৮২]

【18】

শত্রুদের উপর সাহসী মুমিনের ঝাঁপিয়ে পড়া প্রসঙ্গে

আবূ আইয়ূব আনসারী (রাঃ) তিনি বলেনঃ ওয়ালা তুল্‌কু... আয়াতটি আনসার সম্প্রদায় প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে। (আয়াতটির অর্থ তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না)। আয়াতটি ঐসব আনসারী মুসলিমদের মনোভাবের প্রতিবাদে অবতীর্ণ হয়েছিল যারা-রোমক সৈন্যের উপর আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রুসৈন্যের মধ্যে প্রবেশকারী মুজাহিদদের কাজকে অনুচিত কাজ বলে মন্তব্য করেছিলেন। (অর্থাৎ কুরআনের উপরোক্ত আয়াতে মুসলিমদের যুদ্ধে উৎসাহী ও নির্ভিক হওয়ার জন্য জোর তাগিদ করা হয়েছে এবং ধর্মীয় সংগ্রামকে ধ্বংসের কারণ মনে করার ঘোর প্রতিবাদ করা হয়েছে) এবং যুদ্ধে অংশ গ্রহণ না করে ঘরে বসে থাকাকে ধ্বংসের কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। [১৩৮৩]

【19】

দুশমনের দেশে আগুন জ্বালিয়ে দেয়ার বিধান

ইবনু উমার (রাঃ) তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বানু নাযীর গোত্রের খেজুরের গাছ জ্বালিয়ে দেন ও কেটে ফেলেন। [১৩৮৪]

【20】

গণীমতের মাল চুরি করা হারাম

উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ) তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ গাণীমতের মালে কোন খিআনাত (অন্যায়ভাবে অধিকার) করবে না। এরূপ করার ফলে ইহকালে ও পরকালে অগ্নি ও লজ্জা উভয়ই ভোগ করতে হবে। [১৩৮৫]

【21】

নিহতের মাল হত্যাকারী পাওয়ার উপযুক্ত

আওফ ইবনু মালিক (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হত্যাকারী মুজাহিদকে (প্রতিপক্ষের নিহত ব্যক্তি) সালাব (পরিত্যক্ত সামগ্রী) দেয়ার ফায়সালা দিয়েছিলেন। [১৩৮৬] আউফ (রাঃ) তিনি বলেন, আবূ জাহলের হত্যকারীদ্বয় নিজের তরবারী নিয়ে তার দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাকে আঘাত করে হত্যা করল। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে ফিরে এসে তাঁকে জানালো। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাদের মধ্যে কে তাকে হত্যা করেছে? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাদের তরবারী তোমরা মুছে ফেলনি তো? তারা উভয়ে বলল, না। তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের উভয়ের তরবারী দেখলেন এবং বললেন, তোমরা উভয়ে তাকে হত্যা করেছো। অবশ্য তার নিকট হতে প্রাপ্ত মালামাল মু’আয ইব্‌নু ‘আম্‌র ইব্‌নু জামূহের জন্য। [১৩৮৭]

【22】

গণহত্যার বিধান

মাকহুল (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তায়িফবাসীর উপর মিনজানিক (ক্ষেপনাস্ত্র) ব্যবহার করেছিলেন। [১৩৮৮]

【23】

বন্দীকে ইসলামের দাওয়াত না দিয়ে হত্যা করা

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) (মাক্কাহ জয়ের বছর) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাথায় শিরস্ত্রাণ পরা অবস্থায় প্রবেশ করেন। যখন তিনি তা খুলে ফেললেন, এক ব্যক্তি এসে বললো, ইব্‌নু খাতাল্‌ কা’বার পর্দা ধরে আছে। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘তাকে হত্যা কর’। (মুত্তাফাকুন আলাইহি) [১৩৮৯]

【24】

বেঁধে হত্যা করা প্রসঙ্গে

সা’ঈদ ইবনু যুবাইর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বদরের যুদ্ধে তিনজনকে বেঁধে হত্যা করেছিলেন। (আবূ দাঊদ তাঁর মারাসীলে বর্ণনা করেন, এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য)। [১৩৯০]

【25】

কাফের বন্দীর বিনিময়ে মুসলমান বন্দীকে মুক্ত করা জায়েয

ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’জন মুসলিমকে মুক্ত করার জন্য বিনিময়ে একজন মুশরিক বন্দীকে ছেড়ে দিয়েছিলেন।–তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। হাদীসটির মূল মুসলিমে রয়েছে। [১৩৯১]

【26】

বন্দী হওয়ার পূর্বেই শত্রুপক্ষের কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে তার সম্পদ সুরক্ষিত

সাখর ইবনু আইলাহ (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ কোন ক্বাওম যখন ইসলাম ক্ববূল করে তখন তারা তাদের রক্ত ও সম্পদকে নিরাপদ করে নেয়।–হাদীসের রাবীগন মজবুত। [১৩৯২]

【27】

মুক্তিপণ ছাড়াই বন্দীকে মুক্ত করা জায়েয

জুবাইর ইবনু মুতয়িম (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বদরের যুদ্ধ বন্দীদের ব্যাপারে বলেন, ‘যদি মুতয়িম ইবনু আদী (রাঃ) জীবিত থাকতেন আর আমার নিকট এ সকল নোংরা লোকের জন্য সুপারিশ করতেন, তবে আমি তাঁর সন্মানার্থে এদের মুক্ত করে দিতাম। [১৩৯৩]

【28】

যুদ্ধ বন্দিনীর সাথে সঙ্গম করার বৈধতা

আবু সাইদ খুদরী (রাঃ) তিনি বলেনঃ আওতাস নামক যুদ্ধে আমরা এমন কিছু যুদ্ধবন্দিনী লাভ করি যাদের স্বামী রয়েছে। ঐ বন্দিনীদের সাথে সহবাসকে মুসলিমগণ গুনাহের কাজ মনে করলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ্‌ আয়াত নাযিল করলেন- স্বামীওয়ালা মেয়েরা তোমাদের জন্য হারাম, বন্দিনী দাসী মেয়েদের ক্ষেত্রে তা নয়। [১৩৯৪]

【29】

সৈন্যদলের মাঝে গনীমতের মাল বণ্টন করা

আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাজদের দিকে একটি সেনাদল পাঠালেন, যাদের মধ্যে আমিও ছিলাম। এ যুদ্ধে গনীমত হিসেবে তারা বহু উট লাভ করেন। তাঁদের প্রত্যেকের ভাগে এগারোটি কিংবা বারটি করে উট পড়েছিল এবং তাঁদেরকে পুরস্কার হিসেবে আরও একটি করে উট দেয়া হয়। [১৩৯৫]

【30】

গনীমতের মাল বণ্টনের পদ্ধতি

সাহাবী ইবনে ‘উমার (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খাইবার যুদ্ধে গনীমত হতে যুদ্ধে ব্যবহৃত ঘোড়ার জন্য দু’টি অংশ ও পদাতিকের জন্য ১টি অংশ দিয়েছেন।– হাদীসের শব্দ বিন্যাস বুখারীর। [১৩৯৬] আবু দাউদে আছে, যোদ্ধা ও ঘোড়ার জন্য তিনটি অংশ দিয়েছিলেন, দুটো ভাগ তাঁর ঘোড়ার ও একটি ভাগ তাঁর নিজের। [১৩৯৭]

【31】

গনীমতের মাল এক পঞ্চমাংশ আদায় করার পর অতিরিক্ত দেয়া প্রসঙ্গে

মা’ন ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে শুনেছিঃ গনীমতের মাল (সরকারী) এক পঞ্চমাংশ আদায় করার পর নফল বা অতিরিক্ত দেয়া যাবে (তার আগে নয়)। [১৩৯৮]

【32】

গনীমতের মাল হতে কতটুকু পরিমান অতিরিক্ত দেওয়া জায়েয-এর বর্ণনা

হাবীব ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে দেখেছি, তিনি প্রথম দফায় আক্রমণের কারণে আক্রমণকারী মুসলিম মুজাহিদকে গানীমাত হতে এক চতুর্থাংশ দিয়েছিলেন আর (ঐ মুজাহিদের) পুনর্বার আক্রমণ করার জন্য এক তৃতীয়াংশ প্রদান করেছেন। [১৩৯৯]

【33】

কোন সৈন্যদলের মাঝে গনীমতের মাল হতে নফল বা অতিরিক্ত মাল খাস করে প্রদান করার বৈধতা

আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রেরিত কোন কোন সেনা দলে কোন কোন ব্যক্তিকে সাধারণ সৈন্যদের প্রাপ্য অংশের চেয়ে অতিরিক্ত দান করতেন। [১৪০০]

【34】

মুজাহিদদের প্রাপ্ত সম্পদ ভক্ষণের বিধান

আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধের সময় মধু ও আঙ্গুর লাভ করতাম। আমরা তা খেয়ে নিতাম, কিন্তু জমা রাখতাম না। আবু দাউদের বর্ণনায় আছে, তা হতে এক পঞ্চমাংশ নেয়া হতো না। [১৪০১] আবদুল্লাহ ইবনু আবী আওফা (রাঃ) তিনি বলেনঃ আমরা খাইবার যুদ্ধে খাদ্যসামগ্রী লাভ করি, ফলে লোকেরা প্রয়োজন মেটানোর মত খাদ্য নিয়ে আপন আপন স্থানে চলে যেত। [১৪০২]

【35】

গনীমত থেকে প্রাপ্ত জন্তুর উপর আরোহণ করা এবং পোশাক-পরিচ্ছেদ পরিধান করার বিধান

রুওয়াইফি’ ইবনু সাবিত (রাঃ) তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্‌ তা’আলা ও পরকালে বিশ্বাসী কোন মুসলিম যেন এমন না করে যে, ফাই-এর (বিনা যুদ্ধে অধিকৃত সরকারী মালের) কোন জন্তু ব্যবহার করে তাঁকে দুর্বল করে ফেলে ফেরত দেয়; আর ঐ মালের কোন কাপড় ব্যবহার করে পুরাতন করে ফেলে তা ফেরত দেয়; (অর্থাৎ সরকারী মাল শরী'আত সম্মত অনুমতি ও সদিচ্ছা ছাড়া কারও ব্যবহার করা বৈধ হবে না। [১৪০৩]

【36】

বিধর্মীকে নিরাপত্তা দান করা প্রসঙ্গে

আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রাঃ) তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, কোন মুসলিম স্বীয় দায়িত্বে আশ্রয় দিলে তা অন্য মুসলিমের পক্ষেও পালনীয় হবে। (অর্থাৎ যদি সং ও মহৎ উদ্দেশে কোন মুসলিম কোন বিধর্মীকে আশ্রয় দান করে তবে সকল মুসলিমের উপর তা পালনের দায়িত্ব অর্পিত হবে)। [১৪০৪] তাইয়ালিসীতে ‘আমর ইবনুল আস (রাঃ) একজন তুচ্ছ মুসলিমও মুসলিমের পক্ষ হতে আশ্রয় দানের অধিকার রাখে। [১৪০৫] আলী (রাঃ) মুসলিমের জিম্মা দান একই, এতে একজন নগণ্য মুসলিমও সকল মুসলিমের পক্ষ থেকে যথেষ্ট। [১৪০৬] ইবনু মাজাহ মুসলিমদের একজন দূরতম ব্যক্তি অর্থাৎ নগণ্য লোকও সকল মুসলিমের পক্ষ হতে আশ্রয় প্রদানের অধিকার রাখে। [১৪০৭] (আরবী) বুখারী মুসলিমে উম্মু হানী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত; হাদীসে আছে, তুমি যাকে আশ্রয় দেবে তাকে আমরাও আশ্রয় দিয়েছি বলে সাব্যস্ত হবে।

【37】

আরব ভূখণ্ড থেকে ইয়াহুদ এবং নাসারাদের তাড়িয়ে দেয়া

উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেনঃ অবশ্যই ইয়াহুদী ও নাসারাদেরকে আরবের মাটি হতে বের করে দেব, আর কেবল মুসলিমদেরকেই এখানে রেখে দেব। [১৪০৮]

【38】

আল্লাহ্‌র রাস্তায় জিহাদ করার জন্য যুদ্ধাস্ত্র প্রস্তুত করার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান

উমার (রাঃ) তিনি বলেন, বনু নাযীরের সম্পদ আল্লাহ তা'আলা তার রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ফায়' হিসেবে দান করেছিলেন। এতে মুসলিমগণ অশ্ব বা সাওয়ারী চালনা করেনি। এ কারণে তা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য নির্দিষ্ট ছিল। এ সম্পদ থেকে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার পরিবারকে এক বছরের খরচ দিয়ে দিতেন এবং বাকী আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের প্রস্তুতির জন্য হাতিয়ার ও ঘোড়া ইত্যাদিতে ব্যয় করতেন। [১৪০৯]

【39】

মুজাহিদদের প্রয়োজনে গনীমতের মাল বণ্টন করা

মুআয (রাঃ) তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে থেকে খাইবারে যুদ্ধ করেছি। সে যুদ্ধে আমরা গানীমতের যে মাল লাভ করেছিলাম তার কিছু অংশ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সৈনিকদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছিলেন আর অবশিষ্ট গানীমাতের মালে জমা করেছিলেন। [১৪১০]

【40】

অঙ্গিকার পূর্ণ করার ব্যাপারে আদেশ করা এবং দূতদেরকে আটকিয়ে রাখতে নিষেদ করা

আবু রাফি (রাঃ) তিনি বলেন; রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি ওয়াদা ভঙ্গ করি না (রাষ্ট্রীয়) দূতকে বন্দীও করি না। [১৪১১]

【41】

মুসলমানদের গনীমতের জমি বণ্টনের বিধান

আবু হুরাইরা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে লোকালয়ে (বস্তিতে) তোমরা আগমন করে বিনা যুদ্ধে জয়ী হয়ে সেখানে অবস্থান করবে সে ক্ষেত্রে তা তোমরা তোমাদের অংশ হিসেবে লাভ করবে। আর যে বস্তি আল্লাহ ও তার রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নাফরমানীর কারণে যুদ্ধের সম্মুখীন হবে ও লড়াই-এর পর পরাজিত হবে সেখানে গনীমাতের এক পঞ্চমাংশ আল্লাহ ও তার রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্য হবে তারপর তা তোমাদের জন্য থাকবে। [১৪১২]

【42】

সন্ধি ও জিয্‌ইয়া

【43】

অগ্নিপূজকদের কাছ থেকে কর নেওয়া

আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাজার এলাকার অগ্নিপূজকদের নিকট হতে তা অর্থাৎ যিযিয়া গ্রহণ করেছেন। [১৪১৩]

【44】

আরবদের কাছ থেকে কর নেয়া

আসিম ইবনু উমার (রাঃ) তিনি আনাস ও উসমান ইবনু আবু সুলায়মান (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খালিদ ইবনু ওয়ালীদকে যুদ্ধাভিযানে দুমাতুল জান্দালে শাসক উকাইদিরের নিকটে পাঠিয়েছিলেন । তিনি তাকে বন্দী করে নিয়ে আসেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে হত্যা করা হতে রক্ষা করলেন ও তার সাথে জিইযয়া করের বিনিময়ে সন্ধি করেন। [১৪১৪]

【45】

করের পরিমান এবং এর পরিশোধকারীর বিবরণ

মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) তিনি বলেনঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে ইয়ামান পাঠিয়েছিলেন। আর প্রত্যেক বয়ঃপ্রাপ্ত জিম্মী প্রজার মাথাপিছু (বার্ষিক) কর একটি দিনার বা তার সমমূল্যের মু'আফিরী কাপড় আদায়ের আদেশ দিয়েছিলেন। [১৪১৫]

【46】

ইসলাম উঁচু থাকবে, নিচু হবে না

আয়িয ইবন আমর মুযানী (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ইসলাম উঁচু থাকবে-নীচু হবে না। [১৪১৬]

【47】

আহলে কিতাবদের সালাম দেওয়া এবং তাদের জন্য রাস্তা ছেড়ে দেয়া নিষেধ

আবু হুরাইরা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন; সালাম আদান-প্রদানকালে ইয়াহুদী ও নাসারাদেরকে আগে সালাম দেবে না। রাস্তায় চলাচলে (কাছাকাছি হলে) তাদেরকে পাথের সংকীর্ণতার দিকে যেতে বাধ্য করবে। [১৪১৭]

【48】

মুসলমান এবং মুশরিকদের মাঝে যুদ্ধবিরতির চুক্তি করা জায়েয

মারওয়ান (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুদাইবিয়ার যুদ্ধ দিবসে বের হয়েছিলেন । (হাদসটি লম্বা, তার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে)। এটা ঐ সন্ধি যা আব্দুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ সুহাইল ইবনু আমরের সাথে দশ বছর যুদ্ধ বন্ধ রাখার জন্য সম্পাদন করলেন। জনসাধারণ এতে নিরাপদে থাকবে ও একপক্ষ অন্য পক্ষের উপর আঘাত হানবে না। [১৪১৮] মুসলিমে আনাস (রাঃ) হাদীসের একটা অংশে এরূপ আছে, (প্রতিপক্ষ কুরাইশ বললো) তোমাদের যে লোক আমাদের কাছে চলে আসবে, আমরা তাকে তোমাদের কাছে ফেরত দেব না। আর আমাদের মধ্য থেকে যে লোক তোমাদের কাছে চলে যাবে তাকে আমাদের কাছে ফেরত পাঠাতে হবে। (এরূপ শর্ত প্রসঙ্গে) সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ শর্ত কি আমরা লেখব? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হ্যা। কেননা আমাদেরকে ছেড়ে যারা তাদের কাছে চলে যাবে (জানতে হবে) আল্লাহ তাকে (আমাদের থেকে) দূর করে দিয়েছেন। আর যে তাদের মধ্যে থেকে আমাদের কাছে চলে আসবে তার জন্য আল্লাহ অচিরেই মুক্তি ও বিপদ হতে ত্রাণের ব্যবস্থা করবেন। [১৪১৯]

【49】

চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিকে হত্যাকারীর গুনাহ

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন জিম্মীকে হত্যা করে, সে জান্নাতের ঘ্রাণ পাবে না। যদিও জান্নাতের ঘ্রাণ চল্লিশ বছরের দূরত্ব হতে পাওয়া যাবে’। [১৪২০]

【50】

দৌড় প্রতিযোগিতা এবং তীর নিক্ষেপন

【51】

ঘৌড়-দৌড় শরীয়তসম্মত এবং শক্তি-সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিযোগিতার দূরত্ব নির্ধারণ

'আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুদ্ধের জন্যে তৈরি ঘোড়াকে ‘হাফয়া (নামক স্থান) হতে সানিয়াতুল ওয়াদা পর্যন্ত দৌড় প্রতিযোগিতা করিয়েছিলেন। আর যে ঘোড়া যুদ্ধের জন্যে তৈরি নয়, সে ঘোড়াকে ‘সানিয়া’ হতে যুরাইক গোত্রের মাসজিদ পর্যন্ত দৌড় প্রতিযোগিতা করিয়েছিলেন। আর এই প্রতিযোগিতায় ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) অগ্রগামী ছিলেন। বুখারীতে আছে, সুফইয়ান (রাঃ) বলেন, হাফইয়া হতে সানিয়াতুল ওয়াদা’ পাঁচ বা ছ'মাইল এবং সানিয়া হতে বানি যুরাইক্বের মাসজিদ এক মাইল। (হাফইয়া এটা মদীনার বাইরের একটা স্থানের নাম)। [১৪২১]

【52】

ঘোড়ার শক্তি ও সামর্থ্য অনুযায়ী ঘৌড়-দৌড়ের সীমানা নির্ধারণ

ইবনু উমার (রাঃ) তিনি বলেনঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘোড়া দৌড়ের প্রতিযোগিতা করিয়েছেন, তিনি এতে পূর্ণ বয়সের ঘোড়া যা দীর্ঘ পথ অতিক্রমে সক্ষম, সে গুলোকে প্রাধান্য দিয়েছেন। -ইবনু হিব্বান হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। [১৪২২]

【53】

কল্যাণের স্বার্থে প্রতিযোগিতা বৈধ

আবু হুরাইরা (রাঃ) তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ উট, তীর ও ঘোড়া ছাড়া অন্য বস্তুতে প্রতিযোগিতা নেই। [১৪২৩]

【54】

প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে তৃতীয় ঘোড়া প্রবেশ করানোর শর্ত প্রসঙ্গ

আবু হুরাইরা (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তি পিছিয়ে যাওয়ার আশংকা নিয়ে কোন ঘোড়াকে দুটো ঘোড়ার মধ্যে ঢুকিয়ে দেয় এরূপ ক্ষেত্রে কোন দোষ নেই। কিন্তু এরূপ আশংকা না থাকার অবস্থায় ঢুকানো জুয়ার শামিল হবে। [১৪২৪]

【55】

তীর চালনার ফজীলত এবং এ ব্যপারে উৎসাহ প্রদান

উক্ববাহ ইবনু আমির (রাঃ) তিনি বলেন; আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে মিম্বারের উপরে ওয়া আ’ইদুল্লাহুম' এ আয়াতটা পড়তে শুনেছি, তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেছিলেন, তোমরা সজাগ হও শর নিক্ষেপেই শক্তি। সজাগ হও, শর নিক্ষেপই শক্তি রয়েছে। সজাগ হও শর নিক্ষেপেই শক্তি রয়েছে। (অর্থাৎ তীর নিক্ষেপে তখনকার দিনে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছেন। সমসাময়িক কালে যুদ্ধের জন্য প্রয়োজন বলে যা সাব্যস্ত হবে সেটাকেই আয়ত্ব করা মুজাহিদগণের কর্তব্য)। [১৪২৫]